আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সারাদেশের ন্যায় ঢাকার সাভারেও উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। মহাষ্টমীর পবিত্র লগ্নে অনেক মন্ডপেই চলছে ভক্তদের কাঙ্ক্ষিত কুমারী পূজা।
পৌরাণিক ইতিহাস ও শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, দেবী দুর্গার শক্তির প্রতীক হিসেবে কুমারী মেয়েদের মধ্যে জগন্মাতার রূপ কল্পনা করে এই পূজা করা হয়। মহাভারতের যুগে বাণাসুর নামক অসুরকে বধ করার জন্য দেবী দুর্গা কুমারী রূপেই আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী অজাতপুষ্পা কন্যাকে কুমারী হিসেবে পূজা করা হয়। এর মাধ্যমে সমাজে নারীর সম্মান, মাতৃরূপের জাগরণ এবং সৃষ্টির মূল শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের হাত ধরে আধুনিককালে এই পূজার জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়।
চলতি বছর ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই জুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। এই অঞ্চলে এবার পাঁচ শতাধিক পূজামন্ডপে বিরাজ করছে জমজমাট উৎসবের আমেজ। উৎসবের এই দিনগুলোতে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ ও ভক্তবৃন্দ দলবেঁধে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক মন্ডপ থেকে অন্য মন্ডপে। মন্দিরে মন্দিরে চলছে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ।
যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য প্রতিটি মন্ডপে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রয়েছে। মহাষ্টমীর এই কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে মহানবমী এবং পরবর্তীতে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এই মহোৎসবের। "ধর্ম যার যার, উৎসব সবার" এই অসাম্প্রদায়িক মন্ত্রে আজ মুখরিত হয়ে উঠেছে সাভারের প্রতিটি প্রাঙ্গণ।

good