ময়মনসিংহের ফুলপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে জোসনা খাতুন (৪৫) নামের এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬ অক্টোবর সোমবার দুপুরে উপজেলার রূপসী বাজারে নিহত নারীর সন্তান ও স্বজনেরা এই কর্মসূচি পালন করেন। এতে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসীও অংশ নেন।
মানববন্ধনে নিহত জোসনা খাতুনের সন্তানেরা অভিযোগ করেন, তাঁদের মাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সবার এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাঁরা দ্রুত সময়ের মধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দাবি জানান।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের বাট্টা এলাকায় আলী নেওয়াজের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তোফাজ্জল, লিয়াকত ও হারুনসহ তাঁদের পক্ষের লোকজন আলী নেওয়াজ, তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর এবং বাড়িতে থাকা নারীসহ বেশ কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় আলী নেওয়াজের স্ত্রী জোসনা খাতুন স্বামী-সন্তানকে বাঁচাতে গেলে তাঁর মাথায় দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ফুলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মামলার প্রধান অভিযুক্ত তোফাজ্জলসহ আরও কয়েকজন এখনো গ্রেপ্তার হননি। তাঁদের অভিযোগ, আসামিপক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে বাদীপক্ষকে হুমকি দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সোমবারের মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত জোসনা খাতুনের ছেলে আলমগীর হোসেন রবিন, তাঁর দেবর আছির উদ্দিন ও নাছির উদ্দিন এবং ছেলের বউ শাহানা খাতুন। বক্তারা দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং আদালতের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন বলেন, এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
নিহত জোসনা খাতুনের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, আর যেন কোনো পরিবারকে এভাবে স্বজন হারানোর বেদনায় পড়তে না হয়, সে জন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
